খেলাধুলা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ২৪ বছর পর নকআউট পর্বে প্রথমে গোল হজম করেও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় সুনিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের মাঝেই দলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের চোট।
ম্যাচের শুরু থেকেই জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও গোছানো ফুটবল ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমার্ধেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমে গোল খেয়েও জয়ের পর থেকে, নকআউট পর্বে প্রথমে গোল হজম করলেই ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের বিদায় নেওয়ার একটি পরিসংখ্যানগত ধারা তৈরি হয়েছিল। জাপান প্রথমে লিড নেওয়ায় ফুটবল মহলে আবারও সেই ঐতিহাসিক শঙ্কার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা দেখা দেয়।
তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামে ব্রাজিল। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে দল। ১-১ সমতায় ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিট) স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি গোল করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা নকআউট পর্বের মনস্তাত্ত্বিক বাধা ভাঙতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। ডাগআউটে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের পুরো সময় বসে থাকা প্রসঙ্গে কোচ জানান, ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে নেইমারকে মাঠে নামানোর কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দলের জয় নিশ্চিত হওয়ায় চোট থেকে ফেরা এই তারকাকে নিয়ে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। গোলদাতা ক্যাসেমিরো এই কষ্টার্জিত জয়কে দলের ধৈর্যের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঐতিহাসিক এই জয়ের রাতে ব্রাজিলিয়ান শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ফুটবলারদের চোট। ম্যাচ চলাকালীন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গোলদাতা ক্যাসেমিরো এবং মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। টুর্নামেন্টের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই দুই মূল খেলোয়াড়ের চোট দলের শক্তিমত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের চোটের গভীরতা নির্ণয়ে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী ম্যাচের দল গঠন করা হবে। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে নকআউট পর্বে ঘুরে দাঁড়ালেও, চোটের এই নতুন সংকট আনচেলত্তির দলের শিরোপা জয়ের মিশনকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটিই এখন ফুটবল অঙ্গনের মূল আলোচনার বিষয়।


