জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ার শঙ্কা, সব পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ার শঙ্কা, সব পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয়  ডেস্ক

জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির তীব্রতা বা ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বিক এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরই এ সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ে। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগাম সতর্কতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত রোগ নির্ণয়ের সুবিধার্থে ইতিমধ্যে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে থানা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ‘এনএসওয়ান’ (NS1) পরীক্ষার কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও স্থানীয় হাসপাতালেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে পারবেন, যা চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সক্ষমতা যাচাই করে রাখা হয়েছে, যেন হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালু করা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা ও নির্দেশনাবলীও হালনাগাদ করা হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মসজিদের ইমামসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ এলাকা ও চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সামাজিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী বর্ষার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া ডেঙ্গুর সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই আগাম সতর্কবার্তা এবং প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপগুলো মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই আগামী দিনগুলোর জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নির্ভর করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ