জাতীয় ডেস্ক
সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এই বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাকটিকিট এবং ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর অফিসিয়াল লোগো উন্মোচন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এ ছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্ট শিল্পীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বৈপ্লবিক অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বছরব্যাপী এই কর্মসূচির অধীনে দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের প্রতিযোগিতা এবং কবির সাহিত্যকর্মের অনুবাদ ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কবির সৃষ্টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কবির সাম্যবাদী ও মানবিক দর্শন বর্তমান সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগামী তিন দিন দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধনী পর্বের সমাপ্তি ঘটবে, যা পরবর্তীতে বছরজুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে।


