জাতীয় ডেস্ক
দেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত জনবল সংকট মোকাবিলায় তরুণ সমাজ ও নতুন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাকর্মী ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এই সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার তরুণ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি এ খাতে নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কর্মশালায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ কম। এটি আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামোর একটি অন্যতম প্রধান দুর্বলতা। এই ঘাটতি কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়, এর জন্য বেসরকারি খাত এবং তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি এই খাতে নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে বিশেষ তাগিদ দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা খাতটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করা সম্ভব।
বক্তব্যে দেশের চিকিৎসা খাতের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক বিশ্বমানের এবং খ্যাতনামা চিকিৎসক রয়েছেন, যারা প্রতিনিয়ত আধুনিক ও নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আন্তর্জাতিক মানের, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে নতুন স্টার্টআপ গড়ে তুলতে পারেন।
চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও মৌসুমী রোগব্যাধি মোকাবিলা প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটি মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পরিশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী টেকসই ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন: প্রথমত, আধুনিক ও যুগোপযোগী স্বাস্থ্য উদ্ভাবন; দ্বিতীয়ত, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি; এবং তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি। সরকারি নীতিমালার সংস্কার এবং তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


