বাংলাদেশ ও বিমসটেকের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ

বাংলাদেশ ও বিমসটেকের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক

ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৬: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অভিন্ন সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ও বিমসটেক। আজ মঙ্গলবার ঢাকা সফররত বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সংস্থার চলমান কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালে আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে বিমসটেক মহাসচিব সংস্থাটির সামগ্রিক কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বিমসটেকের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব এবং গঠনমূলক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মহাসচিব উল্লেখ করেন, সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই জোটের সক্রিয়তা অপরিহার্য।

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিমসটেক প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত ও দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে এবং এই মেয়াদকালে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের বর্তমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের ও এই অঞ্চলের জনগণের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উপ-আঞ্চলিক সংযোগ (কানেক্টিভিটি), জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) বৃদ্ধির মতো অগ্রাধিকারমূলক খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সহযোগিতাগুলো যেন কেবল প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুফল বয়ে আনে।

বৈঠকে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালীন গৃহীত অগ্রাধিকার ও সিদ্ধান্তসমূহের সময়োপযোগী বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়। প্রতিমন্ত্রী জানান, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ বিমসটেকের বিভিন্ন সেক্টরাল বা খাতভিত্তিক বৈঠক আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি সমৃদ্ধ, সহনশীল ও উন্মুক্ত বিমসটেক গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশের এই উপ-আঞ্চলিক জোটের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই উদ্যোগ এবং বিমসটেক সচিবালয়ের সমন্বয় আগামী দিনগুলোতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ