অপরাধ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং অপরাধ দমনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাদের নিয়মিত চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মোট ৪৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র ধারণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৫৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এই নিয়মিত অভিযানের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা শহরকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ধরনের সমন্বিত অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের সরবরাহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর আটটি বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ১০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৫৯ জন, রমনা বিভাগে ৫০ জন, মতিঝিল ও তেজগাঁও বিভাগে ৪৯ জন করে, গুলশান বিভাগে ৪৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৭ জন এবং লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) এই অভিযানে অংশ নিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানকালে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৬ কেজি ৫৪০ গ্রাম গাঁজা, ৪৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩২ গ্রাম হেরোইন। মাদকবিরোধী এই তৎপরতার পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, একটি শুটার মেশিন, একটি কাঠ কাটার মেশিন, একটি গ্র্যান্ডিং মেশিন এবং একটি স্ট্যান্ড ফ্যান জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, উদ্ধারকৃত এসব যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চুরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধের ধরণ অনুযায়ী তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মহানগরীর জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বন্ধে পুলিশের এই দৃশ্যমান অবস্থান ও কঠোর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের নিয়মিত অভিযানের ফলে মহানগরে অপরাধের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ নাগরিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। তবে অপরাধের মূল উৎপাটন করতে পুলিশের এই পেশাদার তৎপরতার পাশাপাশি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ডিএমপির পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


