অপরাধ ও আদালত ডেস্ক
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালতে তাকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের সুষ্ঠু স্বার্থে রাশেদ খান মেননকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সাবেক এই মন্ত্রী অন্য মামলায় ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
দুদকের মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ বোর্ড গঠনের কোনো আইনগত ক্ষমতা বা এখতিয়ার ছিল না। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। আইনানুযায়ী এই ধরনের নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বা তার মনোনীত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, এই বোর্ডের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি।
এজাহারে আরও বলা হয়, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, সনদ ছাড়াই বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত একজন যোগ্য প্রার্থীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, নিয়োগ পরীক্ষা আনুষ্ঠানিক ও আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই কিছু প্রার্থীর অনুকূলে নিয়োগপত্র এবং যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়েছিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম ও পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা শিক্ষার গুণগত মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়মের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুদক জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


