সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

প্রবাস ডেস্ক

সৌদি আরবের আল-বাহা শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় তোফায়েল হোসেন (৩২) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে নিহতের পারিবারিক সূত্রে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত তোফায়েল হোসেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এবং পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে তোফায়েল হোসেন সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তিনি সেখানে আল-জাহরাইন কোম্পানির অধীনে আল-বাহা শহরের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি নিয়মিত দেশে পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই স্থানীয় সময় রাতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে নাশতা শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৪টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তোফায়েলের অকাল মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার নাগাইশ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তোফায়েল অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং অমায়িক স্বভাবের ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।

নিহতের স্বজন আতাউর রহমান জানিয়েছেন, তোফায়েলের মরদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব তার মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে তারা সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের ঝুঁকি বরাবরই একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী কর্মীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। আল-বাহা শহরে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রবাসীদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সড়ক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহের দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে স্বজনরা। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ দেশে আনা হবে এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ সহায়তা পেলে মরদেহ দ্রুত দেশে আনা সহজতর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ