স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ ডেস্ক
দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিক্যাল ফিজিক্স (আইএনএমপি) এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং আইএনএমপির পক্ষে পরিচালক মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান ক্যান্সার রোগীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, রেডিয়েশন অনকোলজি সেবা, মেডিক্যাল ফিজিক্স, গুণমান নিশ্চিতকরণ (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স), গবেষণা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে।
বর্তমানে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সারা দেশ থেকে আসা রোগীদের সংখ্যার তুলনায় সেবার সীমাবদ্ধতা থাকায় দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতা অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং রোগের জটিলতা বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যা নিরসনে ও দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই চুক্তির ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রোগীরা এখন থেকে উন্নত প্রযুক্তির নিউক্লিয়ার মেডিসিন, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং নিবিড় থেরাপিউটিক সেবা দ্রুত ও সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেডিয়েশন থেরাপি ও সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মেডিক্যাল ফিজিক্স ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সের আধুনিক মানদণ্ডগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক চিকিৎসা সেবার গুণগত মানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই যৌথ উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, সরকারি পর্যায়ের এই দুই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও জ্ঞানগত বিনিময় ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিকায়নে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার চিকিৎসার মতো জটিল ও ব্যয়বহুল সেবায় সরকারি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক ঝুঁকি হ্রাস করবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যান্সার বিষয়ক গবেষণার পরিধি বিস্তৃত হবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এই সমঝোতা স্মারকের সফল বাস্তবায়ন দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে এবং সরকারি পর্যায়ের চিকিৎসা সেবার প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। আগামী দিনে রোগীদের অপেক্ষমাণ তালিকা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং চিকিৎসার আধুনিক প্রযুক্তি সহজলভ্য করাই এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য।


