অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের সমন্বয় আনা হয়েছে। বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন দর গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ভ্যাটসহ ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়। এই মূল্য সমন্বয় দেশের স্বর্ণের বাজারে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
স্বর্ণের মান অনুযায়ী নতুন মূল্য তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজুস আন্তর্জাতিক বাজার দর এবং স্থানীয় চাহিদাকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যের কিছুটা স্থিতিশীলতা বা নিম্নমুখী প্রবণতা থাকায় দেশীয় বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে কেবল স্বর্ণ নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধাতুর দামও নিয়মিত তদারকি করা হয়।
ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলবে জুয়েলারি খাতের ব্যবসা ও বিক্রির ওপর। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে যারা স্বর্ণালঙ্কার ক্রয়ের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছিল। বর্তমান এই দাম কমানোর প্রক্রিয়াকে বাজারের অস্থিরতা নিরসনে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম যখন বৃদ্ধি পায়, তখন স্থানীয়ভাবেও তার প্রভাব পড়ে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও সেই অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়। বাজুস স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়মিত বিরতিতে এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করে থাকে, যাতে ক্রেতারা প্রতারিত না হন এবং একটি মানদণ্ড বজায় থাকে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত সময়ে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ফলে স্বর্ণের দামের সামান্য হেরফেরেও বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। আজকের লেনদেনেও নতুন দাম অনুযায়ী বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকা অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়েছে বাজুস।
স্বর্ণের দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে অভ্যন্তরীণ বাজারে বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজুস তাদের ওয়েবসাইটে এবং সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়মিত মূল্য তালিকা হালনাগাদ করে থাকে, যাতে সাধারণ মানুষ যে কোনো সময় সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে। দেশের অর্থনীতিতে স্বর্ণের বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তাই এই খাতের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।


