প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ডেস্ক
চীনের সাংহাইয়ে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (ডব্লিউএআইসি)-২০২৬’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
১৭ জুলাই শুক্রবার সাংহাইয়ে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক এবং গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের যুগে এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ অপরিহার্য। তারা এআই-এর সুষম বণ্টন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সহজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১৮ জুলাই শনিবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যার শিরোনাম ‘হাই-লেভেল মিটিং অন গ্লোবাল কো-অপারেশন ইন এআই গভর্ন্যান্স’। এই সেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে কীভাবে এআই প্রযুক্তিকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা যায় এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের যেমন অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে ডেটা সুরক্ষা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ওপর এআই-এর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই সম্মেলন থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আসার প্রত্যাশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, এবারের ডব্লিউএআইসি সম্মেলনে এআই-এর শাসন পদ্ধতি, নৈতিকতা, ডাটা ম্যানেজমেন্ট এবং প্রযুক্তির টেকসই উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী অধিবেশন সাজানো হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক নীতিমালার নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাই সম্মেলনের সমাপনী ঘটবে। বাংলাদেশের মন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রযুক্তি কাঠামোর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


