অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সমাধান। প্রথাগত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের জনবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের গ্রামাঞ্চলে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পরিবার মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বাড়তি ব্যয় থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। জনসাধারণের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধরনের মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। এর অংশ হিসেবেই সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে, যা কৃষকদের সরকারি সুবিধা ও প্রণোদনা পেতে সহায়তা করছে। সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মাঝে স্প্রে মেশিন, নলকূপ, সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন।
উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সরকারের গৃহীত এসব প্রকল্প এবং উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।


