সংস্কৃতি ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর ৭৫তম আসরে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। দীর্ঘ ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম দেশটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কোনো প্রতিযোগীকে পাঠাচ্ছে। আসন্ন এই প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের হয়ে লড়বেন ২৪ বছর বয়সী আনিকা মেরাজ। বৃহস্পতিবার লাহোরের ফালেট্টিস হোটেলে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘মিস পাকিস্তান ইউনিভার্সাল ২০২২’ ড. শাফাক আখতার এবং ‘মিস্টার পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড’ আত্তাউল্লাহ গুজ্জর বিজয়ী আনিকা মেরাজের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন। এই অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতার ইতিহাসে পাকিস্তানের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
আনিকা মেরাজ মূলত একাডেমিক ও পেশাগত দিক থেকে অত্যন্ত সচেতন। তিনি ব্যবসা ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে অডিটিং ও অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। ব্যক্তিগত জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি রাষ্ট্র অনুমোদিত পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী। পাশাপাশি, তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিশুদের অধিকার এবং নারী শিক্ষার প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার মাধ্যমেই পাকিস্তানের জন্য একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনিকা মেরাজ নতুন মুখ নন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি মিস আর্থ, মিস গ্লোবাল, মিস কসমো, মিস ইকো ইন্টারন্যাশনাল এবং মিস অরা ইন্টারন্যাশনালের মতো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া কসোভোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় চারটি শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতা আসন্ন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ৯ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে মিস ওয়ার্ল্ডের ৭৫তম আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করবেন আনিকা মেরাজ। একই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সামানজার সাঈদ। আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতার মানদণ্ডে পাকিস্তানের এই অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও মেধাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। এতদিন পাকিস্তান এই প্রতিযোগিতায় অনুপস্থিত থাকলেও, আনিকা মেরাজের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সংস্কৃতি ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ পেল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশগ্রহণ পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশটিকে নতুনভাবে পরিচিত করতে সাহায্য করবে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে আনিকা মেরাজের পারফরম্যান্স এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও দর্শকদের নজরে রয়েছে।


