আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার নির্ধারিত শুনানি আবারও স্থগিত করা হয়েছে। বিবাদীপক্ষের জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার সকালের শুনানি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট আদালত। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়ায় ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নেতানিয়াহু প্রথমবার আদালতে হাজির হলেও, এরপর থেকে তার জেরা ও আইনি প্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর আইনজীবীদের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক আদালত নথিতে শুনানি অবিলম্বে স্থগিতের অনুরোধ জানানো হয়। আদালতে দাখিলকৃত আবেদনে শুনানিতে অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে গোপনীয় ‘নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি দলটির পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, এ সংক্রান্ত বিস্তারিত ও সংবেদনশীল তথ্য একটি সিলগালা খামের মাধ্যমে বিচারক ও রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত শুনানি স্থগিতের আবেদন মঞ্জুর করে।
২০২৫ সাল থেকে চলতি ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ডিফেন্স টিম বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, কূটনৈতিক ব্যস্ততা এবং উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে একাধিকবার শুনানি পেছানোর আবেদন করেছে, যা আদালত পর্যায়ক্রমে গ্রহণও করেছে। এর ফলে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল মামলার অগ্রগতি ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
আইনি বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে বিচার প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন। বারবার শুনানি স্থগিত হওয়ার এই প্রবণতা ইসরায়েলের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে।


