জাতীয় ডেস্ক
আগামী ঈদুল আজহায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি নিশ্চিত করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসাধু চক্রের তৎপরতা সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যাতে সঠিক মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে এবং অসাধু দালালদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করবে সরকার।
গত রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-উলামার করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা ও জাতীয় মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের কওমি ও দ্বীনি মাদরাসাগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ আসে কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। এই অর্থ মূলত এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে চামড়ার বাজারে ধস এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে মাদরাসাগুলো মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অতীতে সঠিক দাম না পেয়ে মাঠপর্যায়ে চামড়া ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
চামড়া শিল্পের এই সংকট উত্তরণে সরকার প্রধানের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদরাসাগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনোভাবেই যেন এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাঁচা চামড়া পাচার রোধ এবং মাঠপর্যায়ে সিন্ডিকেট ভাঙতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা-উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করবে।
সভায় চামড়া সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ধর্মমন্ত্রী বলেন, সঠিক পদ্ধতির অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করতে হবে। এই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশের মসজিদগুলোর ইমাম এবং আলেম সমাজকে খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হলো চামড়া শিল্প। কোরবানির সময়েই দেশের মোট চামড়া চাহিদার অর্ধেকের বেশি সংগৃহীত হয়। মাঠপর্যায়ে চামড়ার সঠিক দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন দেশের রপ্তানি খাতের কাঁচামালের জোগান অক্ষুণ্ণ থাকবে, অন্যদিকে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এবার চামড়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


