অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন টানা ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ১৩ মে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের আগের ৭ দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের ৫ দিনসহ মোট ১৩ দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে সার্বক্ষণিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। সাধারণ সময়ে দৈনিক নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস রেশনিংয়ের যে নিয়ম থাকে, জনস্বার্থে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হলো।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের একযোগে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পেশাদার পরিবহন চালক ও সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদে যাতায়াতের সময় সিএনজি স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা থাকলে জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে। অতীতে সিএনজি সংকটের কারণে স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হতো। সরকারের এই আগাম পদক্ষেপের ফলে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো কোনো ধরনের দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে, যা সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে।
তবে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্টেশনগুলোতে যাতে পর্যাপ্ত গ্যাস প্রেশার বজায় থাকে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত নিরসনের জন্য পেট্রোবাংলার অধীনে বিশেষ মনিটরিং টিমও কাজ করবে। সরকারি এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক এবং যানজটমুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


