আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহোৎসবে অংশ নিতে আসা ইরান জাতীয় ফুটবল দলের বেস ক্যাম্পের সন্নিকটে একটি পচনশীল মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানার যে স্টেডিয়ামে দলটি অনুশীলন করছে, তার ঠিক বিপরীত পাশের একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লট থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর মেক্সিকান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইরান দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, তিহুয়ানার কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে কালো প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মরদেহে স্পষ্ট সহিংসতার চিহ্ন রয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি বেশ কয়েকদিন ধরে ওই গাড়ির ভেতরেই পড়ে ছিল। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল তাদের প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ শেষ করার পরপরই কড়া সামরিক পাহারায় ইরান দল তাদের অনুশীলন ভেন্যু ত্যাগ করে। মেক্সিকান প্রসিকিউটরের কার্যালয় এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভূ-রাজনীতি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইরান দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি এমনিতেই তীব্র কর্ডন ও কঠোর নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরান ফুটবল দলের মূল বেস ক্যাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যে হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এবং ইরান দলের বেশ কিছু কর্মকর্তা ও সহায়ক স্টাফদের ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা তৈরির কারণে শেষ মুহূর্তে মেক্সিকো সরকারের সহায়তায় ক্যাম্পটি তিহুয়ানায় স্থানান্তর করা হয়। বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান দল মেক্সিকোতে অবস্থান করে কেবল ম্যাচের দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানা দীর্ঘকাল ধরেই স্থানীয় মাদক কার্টেল ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরেই এই শহরটিতে এক হাজার দুই শরও বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এমন একটি অস্থিতিশীল ও সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের দলীয় ক্যাম্প স্থাপন শুরু থেকেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মেক্সিকো প্রশাসন জাতীয় গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৩০০ সদস্যকে ইরান দলের সার্বক্ষণিক সুরক্ষায় নিয়োজিত করেছে। খেলোয়াড়দের হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাতায়াতের সময় সামরিক কনভয় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মেক্সিকান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে।


