ক্রীড়া ডেস্ক
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনেকে গুরুতর ফাউল করার অপরাধে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বমঞ্চের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তদন্ত শেষে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের খেলা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় আসিম মাদিবো কানাডিয়ান খেলোয়াড় ইসমাইল কোনেকে লক্ষ্য করে একটি বিপজ্জনক ট্যাকল করেন। ফাউলটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে ম্যাচ রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। মাঠ ছাড়ার সময় কাতারি এই মিডফিল্ডারকে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও আবেগপ্রবণ দেখায়।
ট্যাকলটির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ইসমাইল কোনে মাঠেই গুরুতরভাবে জখম হন এবং তাকে দ্রুত মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসাগত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ২৪ বছর বয়সী এই কানাডিয়ান ফুটবলারের বাম পায়ের নিচের অংশের টিবিয়া এবং ফিবুলা—উভয় হাড়ই সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এই গুরুতর ইনজুরির কারণে তিনি চলমান টুর্নামেন্ট থেকে স্থায়ীভাবে ছিটকে যান। ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোর হয়ে খেলা এই উদীয়মান তারকাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাঙ্কুভারে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে তার পায়ে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে তার দীর্ঘ সময় লাগবে, যা তার ক্লাব ও জাতীয় দল উভয়ের জন্যই বড় ধাক্কা।
ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জানায়, মাঠে যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ার হুমকিতে ফেলা আচরণ বা বিপজ্জনক ফাউল বরদাশত করা হবে না। এই নীতিমালার আলোকেই মাদিবোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শাস্তির মেয়াদ কমানোর জন্য কাতার ফুটবল কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করতে পারে।
ম্যাচ পরবর্তী সময়ে জানা গেছে, মাঠের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ইসমাইল কোনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং নিজের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। মাঠের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে খেলোয়াড়সুলভ আচরণের এই দৃষ্টান্তটি ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে মাঠের ভেতরে ও বাইরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া কাতার ফুটবল দলের বিশ্বকাপ অভিযানও সুখকর হয়নি। গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের শেষ ও ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হয়েছিল কাতার। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তারা সুবিধা করতে পারেনি। ম্যাচটিতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে। আসিম মাদিবোর নিষেধাজ্ঞা এবং টুর্নামেন্ট থেকে দলের বিদায়—সব মিলিয়ে কাতার ফুটবলের জন্য সময়টি বেশ বিপর্যয়কর হিসেবে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে কানাডা দলও তাদের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারকে হারিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য নতুন রণকৌশল সাজাতে বাধ্য হচ্ছে।


