জাতীয় সংসদ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবৈধভাবে কৃষিজমি ভরাটের তীব্র সমালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি উঠেছে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয় উত্থাপন করেন।
সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, রূপগঞ্জের বিভিন্ন আবাসন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বালু দিয়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ভরাট করে ফেলছে। অপরিকল্পিত ও অবৈধ এই ভূমি পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষিজমি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটিতে বসবাসের অধিকার হারাচ্ছেন এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই জনভোগান্তি নিরসনে এবং পরিবেশ রক্ষায় জড়িত অসৎ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাজেট বক্তৃতায় রূপগঞ্জসহ সামগ্রিক নারায়ণগঞ্জের বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র নাগরিক সংকটের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো—তীব্র গ্যাস সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য ও ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ দূষণ। এসব সমস্যার কারণে স্থানীয় জনজীবন ও শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে সংসদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
জাতীয় অর্থনীতিতে নারায়ণগঞ্জের অবদান এবং এর বিপরীতে জেলার বর্তমান প্রশাসনিক মর্যাদার বৈষম্যের বিষয়টিও অধিবেশনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নারায়ণগঞ্জ একক জেলা হিসেবে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখছে। শিল্প ও বাণিজ্যসমৃদ্ধ এই জেলাটি দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক মূল্যায়নে এখনো এটি ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় রূপান্তর করার জোর দাবি জানানো হয়।
এর পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের গতি বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে পূর্ণাঙ্গ মেট্রোপলিটন সিটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রশাসনিক ও কাঠামোগত রূপান্তর সম্পন্ন হলে জেলাটিতে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্যের আরও প্রসারণ ঘটবে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্ভব হবে।


