চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ নাকচ চসিক মেয়রের

চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ নাকচ চসিক মেয়রের

জাতীয়  ডেস্ক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকার দেয়াল থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত কোনো গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ সংক্রান্ত আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। একই দিন উদ্ভূত পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকায় সব ধরনের জনসমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

গণমাধ্যমে পাঠানো চসিক মেয়রের বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন সবসময় নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে আসছে। কোনো ধরনের শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির মতো সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক বিষয় অপসারণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

মেয়র আরও উল্লেখ করেন, চসিকের কোনো বিভাগ বা শাখাও গ্রাফিতি মোছার মতো কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য তিনি নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। চসিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরীর সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত কিছু কাজ করা হলেও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন কোনো দেয়ালে হস্তক্ষেপ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে টাইগারপাস ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

টাইগারপাসের এই উত্তেজনা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সোমবার সিএমপি সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় থেকে শুরু করে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল, মিটিং ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সিএমপি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক ও আবাসিক জোনে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ