বিনোদন ডেস্ক
দেশের ওপার বাংলার জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’-এর তৃতীয় কিস্তি নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ২০২১ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নির্মাতা আশফাক নিপুণের পরিচালনায় ‘মহানগর’ সিরিজের প্রথম কিস্তি এবং ২০২৩ সালে দ্বিতীয় কিস্তি মুক্তির পর দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তবে দ্বিতীয় সিজনের সমাপ্তির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চূড়ান্ত কিস্তি বা ‘মহানগর ৩’ এর নির্মাণ কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় দর্শক ও সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সিরিজটির দ্বিতীয় কিস্তির শেষ দৃশ্যে কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘ওসি হারুন’ (মোশাররফ করিম অভিনীত) গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ‘এমপি রজব আলী’ চরিত্রে আকস্মিক উপস্থিতি গল্পে নতুন মোড় এনেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে সময় দুই বাংলার শিল্পীদের যৌথ অভিনয়ের ইঙ্গিত দিয়ে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হলেও, দীর্ঘ দুই বছরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য ‘মহানগর ৩’ এর বর্তমান পরিস্থিতি ও বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় কিস্তির শেষ দিকে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের পর নির্মাতা আশফাক নিপুণ তাকে তৃতীয় সিজনে প্রধান চরিত্রগুলোর একটিতে রাখার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে কাজ শুরুর বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান সময়ে এসে এই প্রকল্পের আর কোনো আপডেট বা নতুন খবর তার জানা নেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কাজ শুরু না হওয়া এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনির্বাণের কথায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা প্রকাশ পেয়েছে। তবে চিত্রনাট্য তৈরি ও সামগ্রিক আয়োজন সম্পন্ন হলে তিনি এখনো এই সিরিজে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান।
চূড়ান্ত কিস্তি নির্মাণের এই বিলম্ব এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে নির্মাতা আশফাক নিপুণের সঙ্গে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সিরিজটির ভবিষ্যৎ এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
‘মহানগর ৩’ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বা ওপার বাংলার চলচ্চিত্র ও ওটিটি মাধ্যমে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ব্যস্ততা অব্যাহত রয়েছে। সমসাময়িক একাধিক চলচ্চিত্র ও ওয়েব ফিল্মে নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি। তবে ঢাকার নাট্য ও চলচ্চিত্র মাধ্যমের প্রতি নিজের বিশেষ আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেতা। বাংলাদেশের চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম এবং জয়া আহসানের মতো প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের নির্মাতাদের সঙ্গেও ভবিষ্যতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় ও যৌথ কাজের ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো মানসম্মত প্রজেক্টে যুক্ত হতে তার আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


