অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। নতুন এডিপিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং অবকাঠামোগত রূপান্তর নিশ্চিত করতে এই বড় অঙ্কের উন্নয়ন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে এবারের এডিপিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ যেন যথাযথভাবে ব্যবহার হয়, সেজন্য প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সম্পদ বিভাগের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের এডিপিতে মোট বরাদ্দের বড় অংশই অর্থাৎ প্রায় ৬৬.৩৩ শতাংশ মেটানো হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে। বাকি ৩৬.৬৬ শতাংশ অর্থ আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে। অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর এই উচ্চ নির্ভরতা দেশের সক্ষমতার প্রকাশ ঘটালেও, তা বাস্তবায়ন করা রাজস্ব বোর্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
খাতওয়ারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তবে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতে দেখা যাওয়া ধীরগতি এবং অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে তাড়াহুড়ো করে এডিপি শেষ করার প্রবণতা রোধে এবার শুরু থেকেই মন্ত্রণালয়গুলোকে তাগিদ দেওয়া হবে বলে এনইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদিত এই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি আগামী জুন মাসে জাতীয় সংসদে উত্থাপন হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এই এডিপি দেশের সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


