এইচএসসিতে বৈষম্য দূর করতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র, প্রশ্ন ফাঁসে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি

এইচএসসিতে বৈষম্য দূর করতে অভিন্ন প্রশ্নপত্র, প্রশ্ন ফাঁসে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি

শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে প্রশ্ন ফাঁসের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এই সভার আয়োজন করে।

শিক্ষা মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন বোর্ডে প্রশ্নপত্রের কঠিন ও সহজ হওয়ার পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে জিপিএ বৈষম্য তৈরি হতো, তা নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগুলোর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে তিনি কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশজুড়ে পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো পরীক্ষার্থীকে নীতিবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সভায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ববর্তী নীতিমালার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ঢালাও পাসের প্রবণতা শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমান সরকার মেধার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও পড়াশোনার প্রকৃত মান ফিরিয়ে আনতে নীতিগতভাবে বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও আর্থিক বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রী জানান, অতীতে বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের কারণে মে মাসের বেতন বকেয়া পড়েছিল। সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসের মধ্যে শিক্ষকদের বকেয়া এমপিওসহ মে ও জুন মাসের সমস্ত বকেয়া বেতন একসাথে পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষকদের আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া সহজতর করার বিষয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০১৭ সালে গৃহীত ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই প্রকল্পকে আগামী এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্প বন্ধ করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করা হবে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করার আশ্বাস দেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন উর রশিদ। এছাড়াও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুছ আলী সিদ্দিকী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান সভায় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ