জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “যদি সংস্কারের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সঙ্গে আসতে চায়, তাহলে তাদের নিয়ে একটি জোট গঠন করা হতে পারে।” তিনি এ মন্তব্য করেন মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের চাষারায় এনসিপির জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “যারা সংস্কারের পক্ষে নেই, তাদের সাথে কোনো ধরনের জোট গঠন করা হবে না। জাতীয় ঐকমত্যের প্রশ্নে আমরা সবসময় ছাড় দিয়ে এসেছি, কিন্তু এখন থেকে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। সংস্কারের পক্ষে যারা আসতে চায়, আমরা তাদের নির্বাচনে স্বাগত জানাব।”
এনসিপির জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনু, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের তত্ত্ববধায়ক মোহাম্মদ শওকত আলী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নীরব রায়হান এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এনসিপির সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে দলের প্রার্থী ঘোষণা করব। আওয়ামী লীগ বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। তাদের গত দুই দিনের কার্যক্রমই প্রমাণ করেছে তারা আর কখনোই গণমানুষের দল ছিল না। ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই, এবং এই ঐক্যই দেশের রাজনীতির আগামী পথপ্রদর্শক হতে পারে।”
এ সময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐকমত্য অর্জন এবং একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংস্কারের পক্ষের শক্তি একত্রিত হতে হবে। যারা জনগণের শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী, তারা একত্রিত হলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, এনসিপি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা দেশের মানুষের জন্য একটি নতুন, উন্নত ভবিষ্যত গড়তে চাই এবং সে জন্য আমাদের দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”
এনসিপির এই সংগঠক আরও বলেন, “বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি অনুকূল নয়, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি জনগণের শক্তি এবং সংগঠনের মাধ্যমে এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারব।”
এনসিপির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দলটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।


