থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে সেনা আহত

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে সেনা আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি স্থগিত করেছে থাইল্যান্ড। কম্বোডিয়া সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে থাই সেনাদের আহত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গত অক্টোবর মাসে মালয়েশিয়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশ শান্তি চুক্তিতে সই করেছিল, কিন্তু সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

থাইল্যান্ড সরকারের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত ১০ নভেম্বর এক বিবৃতিতে থাই সরকার জানায় যে, সিসাকেত প্রদেশে কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, তিনি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন, কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উন্নতি হয়নি এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি অব্যাহত রয়েছে।

কম্বোডিয়া সরকার এ ঘটনায় তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটি জানিয়েছে, তারা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুক্তির বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।

গত জুলাই মাসে সীমান্তে সংঘর্ষে ৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর দুই দেশ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি চুক্তিতে সই করেছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার এবং একটি যৌথ পর্যবেক্ষক দল গঠন করতে সম্মত হয়েছিল।

এদিকে, থাইল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, সীমান্ত টহল দেওয়ার সময় বিস্ফোরণে আহত এক সেনার পা হারিয়েছেন। আহত সেনাদের দেখতে আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অনুতিন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়।

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দী পুরানো। ফরাসি উপনিবেশিক শাসন শেষে দুই দেশের সীমান্ত রেখা নির্ধারণের সময় থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। পরবর্তীতে একাধিক সংঘর্ষে দুই দেশ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সর্বশেষ সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে, এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা ছিল, তবে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ওই লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

চুক্তির পরবর্তী ধাপে থাইল্যান্ডে আটক ১৮ কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। তবে চুক্তি স্থগিত হওয়ায় এই পদক্ষেপও আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ভবিষ্যতে নির্ধারণ হবে।

আন্তর্জাতিক