“শেখ হাসিনা একজন সন্ত্রাসী, তাকে দেশে আসতে দেয়া হবে না”মির্জা ফখরুল:

“শেখ হাসিনা একজন সন্ত্রাসী, তাকে দেশে আসতে দেয়া হবে না”মির্জা ফখরুল:

 রাজনীতি ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে দেশের সাধারণ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে, নির্যাতন সহ্য করেছে এবং জুলুমের শিকার হয়েছে—এজন্য জনগণ কখনো তাদের ক্ষমা করবে না। শেখ হাসিনাকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “তাকে দেশে আসতে দেয়া হবে না।” মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বড়গাঁও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায়, যেটি ছিল তার সাংগঠনিক সফরের তৃতীয় দিন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, “সাহস থাকলে দেশে এসে জেল খেটে তারপর কথা বলুন,” শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনার সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে এবং জনগণের অধিকারকে নিষ্পেষিত করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি সময়মতো ভোটগ্রহণ না হয়, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, “যদি এবার নির্বাচন পেছানো হয়, তবে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।” তিনি দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে “ধানের শীষে” ভোট চান এবং জনগণকে “সঠিক দল” নির্বাচন করার জন্য সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের পূর্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা প্রচার করছে, বিশেষ করে নারীদের কাছে। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে জনগণকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশজুড়ে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে, এমনটি জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।” তিনি দাবি করেন যে, বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে এবং এটি নিশ্চিত করতে চায়।

এছাড়া, তিনি শিক্ষা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শরীরচর্চা শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষক বাদ দেয়া উচিত হয়নি। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের অসম্পূর্ণতা তৈরি হয়েছে।”

মির্জা ফখরুল শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি উজ্জ্বল নাম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে নতুন একটি দর্শনের সূচনা করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক।” তার এই মন্তব্য দলের নেতাকর্মীদের কাছে একটি স্মরণীয় বক্তব্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের এই সফরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আহম্মদ আলী। এছাড়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

এদিন তিনি একটি ফুটবল খেলার ফাইনাল উদ্বোধন করবেন এবং তার সফরের শেষ দিনে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানান।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে এসেছিল। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক বিরোধ বিদ্যমান, যা আগামী নির্বাচনে আরও তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য একদিকে সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বিএনপির তীব্র বিরোধী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

রাজনীতি