জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে সম্রাট বাবরের সঙ্গে তুলনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে সম্রাট বাবরের সঙ্গে তুলনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দীন মুহাম্মদ বাবরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং সর্বজনীন উন্নয়ন দর্শনের প্রশংসা করতে গিয়ে ইতিহাসের এই উপমা টেনে আনেন। সংসদে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা ও অসাম্প্রদায়িক নীতির একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের আপামর জনসাধারণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গীকার।

সরকারের এই কল্যাণমুখী নীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মুঘল সম্রাট বাবরের শাসনব্যবস্থার একটি বিশেষ দিকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সম্রাট বাবর তাঁর শাসনামলে সব জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত দরদ ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতেন। বিশেষ করে, তৎকালীন ভারতবর্ষের হিন্দু সম্প্রদায়ের হৃদয় জয় করার জন্য তিনি ব্যতিক্রমী ও বিশেষ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন, যা তাকে একজন দূরদর্শী শাসক হিসেবে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, ঠিক একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের প্রতিটি জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতি সমবেদনা ও আন্তরিকতা নিয়ে, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন বলে মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিহাসের পাতা থেকে কবি কালিদাস রায়ের বিখ্যাত ‘বাবরের মহত্ত্ব’ কবিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সম্রাট বাবর যখন ভারত শাসন করতেন, তখন তাঁর মানবপ্রেমী ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যেই কবি এই কালজয়ী কবিতাটি রচনা করেছিলেন। মন্ত্রী কবিতার শেষ অংশের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পঙ্‌ক্তি—‘হিন্দুর-হৃদি জিনিবার লাগি করিতেছে সুশাসন, ধরিয়া ছদ্মবেশ’—উদ্ধৃত করেন। এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, একজন প্রকৃত শাসক সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার এবং তাদের মন জয় করার চেষ্টা করেন। সম্রাট বাবর যেমন দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেছেন, বর্তমান সরকারপ্রধানও সেই একই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ পরিচালনা করছেন।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের আলোকে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমুখী প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করতে চাচ্ছেন। দরদ দিয়ে, প্রেম দিয়ে কল্যাণের চিন্তা করে দেশের সব সেক্টরে উন্নয়ন কাজ চলমান রেখেছেন এবং চিন্তাধারা করা হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে সব ধরণের মানুষের কল্যাণ করার। সরকারের এই উন্নয়ন দর্শনের ফলে দেশের অবকাঠামো থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, উন্নয়ন কেবল কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সিদ্ধিরগঞ্জে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মূল প্রস্তাবের বিষয়ে ফিরে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দেশের শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ জায়গাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জের মতো এলাকায় বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী, পোশাককর্মী এবং সাধারণ মানুষ বসবাস করেন, যাদের জন্য দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি। প্রস্তাবিত ২০০ শয্যার হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে ওই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং এটি স্থানীয়দের চিকিৎসায় একটি নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল একটি নির্দিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বর্তমান সরকারের সামগ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির একটি প্রতিফলন। মুঘল সম্রাটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই তুলনা রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উন্নয়ন ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি সচেতন প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের জনস্বাস্থ্য সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে। শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা চূড়ান্তভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ