বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, দেশের সরকারি দপ্তরসমূহে বিদ্যমান জনবল সংকট নিরসনে ধাপে ধাপে পাঁচ লাখ শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি তিন স্তরের রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী ছয় মাস, এক বছর এবং পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক প্রশাসনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নয়, অন্যান্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগেও বিদ্যমান শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠি দিয়ে সর্বশেষ নিয়োগ পরিস্থিতি ও শূন্যপদের বিস্তারিত তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো সমন্বিতভাবে দেশের সকল খাতে জনবল সংকট চিহ্নিত করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
‘স্ট্যাটিস্টিকস অফ পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই শূন্যপদের মধ্যে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি এবং অবশিষ্ট অন্যান্য গ্রেডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ খালি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরগুলোতে পদ শূন্য থাকার কারণে প্রশাসনিক সেবা প্রদান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসন ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল ঘাটতির কারণে কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হলে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের ঘোষিত পাঁচ লাখ শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগকে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা নির্ভর বাছাই এবং দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে।
অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ হলে সেবাখাতের দক্ষতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


