১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের হাতে এই পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় এবার রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিকিৎসাবিদ্যা এবং সমাজসেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদানের বিষয়টি এই মনোনয়নে গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য আরও ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এবার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে সরকার। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিলকে (মরণোত্তর) এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও লোকগবেষক আশরাফ সিদ্দিকীকে (মরণোত্তর) এই পদক দেওয়া হচ্ছে।

সংস্কৃতি অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র রচয়িতা ও উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অর্জনের জন্য দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাচ্ছেন।

সমাজসেবায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এবার একাধিক ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এই ক্যাটাগরিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক এবং রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীকে (মরণোত্তর) সম্মাননা প্রদান করা হবে। জনপ্রশাসনে অসামান্য ভূমিকার জন্য কাজী ফজলুর রহমানকে (মরণোত্তর) পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এবার তিনজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষককে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তারা হলেন— মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে নিরলস কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল মুকিত মজুমদার বাবু এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকেও এবার স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং চিকিৎসাবিদ্যায় নিরলস সেবা প্রদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পল্লী উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকার জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এবং সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি দীর্ঘ ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবছর এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করা হয়। দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই তালিকা চূড়ান্ত করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি কেবল পুরস্কৃত ব্যক্তিদেরই সম্মানিত করে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আঠারো ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আজকের এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ