জাতীয় ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কিছু সংগঠিত চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য প্রচার করছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। শুক্রবার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ‘নকল বন্ধে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হবে না এবং পরীক্ষার দিন পরীক্ষার হলে গিয়ে বিষয় জানা যাবে’—এমন একটি তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ভুয়া প্রচারণা বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রচারের ঘটনাও ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফেল করলেই এমপিও বাতিল’—এমন একটি তথ্যও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী জানান, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে এমপিও বাতিল করা হবে না—এমন নীতিগত অবস্থানের কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচারিত হলে তা দ্রুত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের গুজব শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়েছে, পরীক্ষাসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করতে। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।


