রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অবৈধ সিসাবারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও হুক্কা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে গুলশান-২ এর ৩৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত ওই সিসাবারে ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বারটির ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আইন অমান্য করে ওই স্থানে সিসাবার পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানের সময় বারটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি সিসা এবং ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয়। এছাড়া সিসা সেবনের বিভিন্ন উপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, জব্দকৃত সিসা ও হুক্কা পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আটক করা ম্যানেজারের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদক সংশ্লিষ্ট দ্রব্য ব্যবহার ও সরবরাহের অভিযোগ আনা হচ্ছে।
ডিএনসি কর্মকর্তারা আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীনভাবে পরিচালিত সিসাবারগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তরুণদের আকৃষ্ট করে সিসা সেবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে আইনগত বিধিনিষেধও লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট আইনে সিসা বা হুক্কা জাতীয় মাদকসংশ্লিষ্ট দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধান রয়েছে, যা লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে সিসাবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডি এলাকায় এসব অবৈধ বার পরিচালনার অভিযোগ বারবার উঠে আসছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযানে একাধিক সিসাবার বন্ধ করা হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর আওতায় সিসা ও এর উপকরণ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে। অনুমোদন ছাড়া এসব দ্রব্যের ব্যবহার, সংরক্ষণ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের অভিযানকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এতে অবৈধ সিসা সেবনের প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিয়মিত ও ধারাবাহিক নজরদারি না থাকলে আবারও এসব কার্যক্রম ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।
ডিএনসি বলছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান আরও সম্প্রসারণ করা হবে।


