জাতীয় ডেস্ক
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে বিকেল সাড়ে ৩টায় এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে গত দুই মাসের প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্কারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এই সম্মেলনে উপস্থাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে যাওয়া এই সম্মেলনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সংবাদ সম্মেলনটি বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৬০ দিনে সরকার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার একটি খতিয়ান এখানে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গৃহীত উদ্যোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং আগামী দিনগুলোতে সরকারের অগ্রাধিকার কী হবে, সে সম্পর্কেও একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হতে পারে বলে প্রেস উইং সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাধারণত সরকারের কার্যক্রম নিয়ে জনগণের মাঝে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরাসরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের নিয়মিত ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, এবারের সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহে ইচ্ছুক সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ এবং সংবাদ সম্মেলনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম দুই মাস সাধারণত নীতি নির্ধারণ এবং প্রাথমিক প্রশাসনিক সংস্কারের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। আজকের এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সরকার তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে আগামী দিনের শাসন ব্যবস্থার একটি রূপরেখা প্রতিফলিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


