জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ২০ বছর পর পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তর জনপদে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আগামীকাল সোমবার একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি নিজ জেলা বগুড়ায় পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম জেলা সফর, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন। দিনব্যাপী এই সফরে তিনি উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন করবেন। বেলা ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতি ভবন এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘ই-বেলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে অন্যতম ধাপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর ভবনে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর তিনি গাবতলীর বাগবাড়ী অভিমুখে যাত্রা করবেন। সেখানে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এবং শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নশিপুরস্থ চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ভৌত অবকাঠামো সংস্কারে ব্যস্ত সময় পার করছে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ। সড়ক বিভাগ ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর সংস্কার, ডিভাইডার রং করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কবাতি মেরামত ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সফরকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।
বিকালে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসভা থেকে তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করতে পারেন। জনসভা শেষে তিনি বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই সফর নিয়ে বিশেষ আবেগ কাজ করছে। সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে জেলার ঝিমিয়ে পড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতিশীল হবে এবং নতুন শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত হবে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিরাজমান আমেজ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং দীর্ঘ সময় পর ‘ঘরের ছেলের’ প্রত্যাবর্তন হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের মতে, এই সফর এলাকার মানুষের জন্য ঐতিহাসিক এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


