শিগগিরই আসছে নতুন আমদানি নীতি: ব্যবসায়ী সেবা সহজ করতে তিন মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠন

শিগগিরই আসছে নতুন আমদানি নীতি: ব্যবসায়ী সেবা সহজ করতে তিন মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠন

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

সরকার দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে নতুন ‘আমদানি নীতি’ (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও সহজীকরণের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভায় দেশের বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি, নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জ এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো কার্যকরভাবে উপস্থাপনে এফবিসিসিআই-কে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হতে হবে। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, সংগঠনটিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। বরং একে প্রকৃত অর্থেই দেশের সকল ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ব্যবসায়ীর একটি সম্মিলিত এবং নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, এফবিসিসিআই হবে সরকারের একটি সহায়ক শক্তি, যা বাস্তবভিত্তিক মতামতের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংগঠনটির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এফবিসিসিআই-কে গতিশীল করতে যোগ্য, দূরদর্শী ও উদ্যমী নেতৃত্ব অপরিহার্য। ব্যবসায়ী সমাজের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসা উচিত যাতে তারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারেন। প্রয়োজনে গঠনমূলক চাপের মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটিকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা এফবিসিসিআই-এর বর্তমান কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে ব্যবসায়ী সমাজ থেকে দক্ষ কাউকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যাতে সংগঠনটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, মন্ত্রণালয়ের সেবাসমূহ সহজ করতে যে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় (কস্ট অফ ডুইং বিজনেস) কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান প্রাসঙ্গিক কারিগরি বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এছাড়া বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন এবং বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ দেশের শিল্প খাতের বর্তমান সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তারা নতুন আমদানি নীতিতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন, সিএনজি মেশিনারিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন জেলা চেম্বারের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়িক সমস্যার কথা মন্ত্রীকে অবহিত করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের এসব দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি মনে করে এবং তাদের উন্নয়নে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

নতুন আমদানি নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সরকারের এই নিয়মিত সংলাপ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ