জাতীয় ডেস্ক
সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা শুরু হয়। তবে বরাবরের মতো প্রথা ভেঙে এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কোন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন, তা আগে থেকে প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর গোপনীয়তা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজধানীসহ সারাদেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্র, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাধারণত পাবলিক পরীক্ষার প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর কোনো একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নাম গণমাধ্যমকে আগেভাগে জানানো হয়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ঢাকার ভেতরে নাকি বাইরে কোনো কেন্দ্রে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাই মুখ খুলছেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্যমতে, পরিদর্শনের বিষয়টি মন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন এবং গোপনীয়তা বজায় রাখছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের কৌশল নতুন নয়। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ড. এহছানুল হক মিলন সারাদেশে নকল বিরোধী অভিযানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি হেলিকপ্টারযোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নকল বন্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করেন। বর্তমান মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পুনরায় সেই কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দেশের যেকোনো প্রান্তে আকস্মিক পরিদর্শনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র পরিদর্শনের স্থান গোপন রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নকল বা যেকোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করা। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ যদি আগে থেকে মন্ত্রীর আগমনের খবর জানতে না পারে, তবে তারা স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা গ্রহণে বাধ্য থাকে। এটি সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মন্ত্রীর আগমনের খবরে কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি প্রস্তুতির কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ কিছুটা বিঘ্নিত হয়। এবার গোপনীয়তা বজায় রাখার ফলে পরীক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই কৌশলী অবস্থান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষার প্রথম দিনে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সারাদেশের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখছে। অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও কেন্দ্রের নাম গোপন রাখা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।


