বিনোদন ডেস্ক
বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবননির্ভর চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ আগামীকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সিনেমাটি বড় পর্দায় প্রদর্শন করবে স্টার সিনেপ্লেক্স। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বায়োপিকটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ লেগেছে স্থানীয় দর্শকদের মাঝেও।
অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। জাফর পেশায় একজন গায়ক ও নৃত্যশিল্পী হওয়ায় পর্দায় পপ সম্রাটের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে তাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করেছেন নির্মাতারা। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডমিংগো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়া লং ও লরা হ্যারিয়ার। পপ সম্রাটের বাবা জো জ্যাকসনের ভূমিকায় কোলম্যান ডমিংগো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে নিয়া লং অভিনয় করেছেন। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে দেখা যাবে জেসিকা সুলাকে।
চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য হিসেবে উঠে এসেছে আশির দশকের সংগীত বিপ্লব এবং মাইকেল জ্যাকসনের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা অধ্যায়। শৈশবে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু থেকে বিশ্বের প্রভাবশালী বিনোদন ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার পথটি সুনিপুণভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। মঞ্চের আলোকছটার পেছনের ব্যক্তিগত জীবন, একক সংগীত ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময় এবং তার বিশ্বখ্যাত পারফরম্যান্সগুলো পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দর্শকদের এক নস্টালজিক অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড় করাবে এই চলচ্চিত্র।
বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয়তার বিচারে ‘মাইকেল’ এরই মধ্যে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। গত বছরের নভেম্বরে এর টিজার মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১১৬.২ মিলিয়ন দর্শক তা উপভোগ করেছেন, যা মিউজিক্যাল বায়োপিকের ইতিহাসে একটি বিশ্ব রেকর্ড। পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রেলার মুক্তির পরও দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল সিনেমাটি। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রে এটি সর্বকালের অন্যতম সফল ব্যবসায়িক সিনেমা হওয়ার পথে রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, আশির দশক থেকে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত বাংলাদেশে মাইকেল জ্যাকসনের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। সিনেমাটির অগ্রিম টিকিটের চাহিদাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের বাজারে এটি বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্য পেতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একই দিনে বাংলাদেশে এই বড় বাজেটের সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া স্থানীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শিল্পের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংগীতবোদ্ধাদের মতে, এটি কেবল একজন শিল্পীর জীবনী নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক পপ সংস্কৃতির বিবর্তনের চিত্র। পপ সংগীতের গণ্ডি ছাড়িয়ে মাইকেল জ্যাকসন যেভাবে সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, তার সঠিক প্রতিফলন এই সিনেমায় দেখার অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। টিকিট বিক্রির বর্তমান হার বজায় থাকলে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই বড় অংকের আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


