গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানায় মুগ্ধ কিউই স্পিনার ইশ সোধি

গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানায় মুগ্ধ কিউই স্পিনার ইশ সোধি

ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে টাইগার পেসার নাহিদ রানার গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে উচ্চকণ্ঠ প্রশংসা করেছেন কিউই স্পিনার ইশ সোধি। বিশেষ করে এশীয় কন্ডিশনে টানা ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সক্ষমতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বিরল দৃশ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আজ চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কিউই এই লেগ-স্পিনার বাংলাদেশের বর্তমান পেস ইউনিটের সামর্থ্য এবং নিজেদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন।

নাহিদ রানার বোলিং প্রসঙ্গে সোধি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এশীয় কন্ডিশনে একজন পেসারকে ধারাবাহিকভাবে ১০ ওভার জুড়ে এমন উচ্চ গতিতে বল করতে তিনি আগে খুব একটা দেখেননি। তিনি বলেন, “আমি আগে এভাবে কাউকে বল করতে দেখিনি। রানার প্রতিটি ডেলিভারি উচ্চ গতির, যা বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জে ফেলার ক্ষমতা রাখে। ব্যাটারদের জন্য এটি একটি ভিন্নধর্মী পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।” উল্লেখ্য, নাহিদ রানা সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের গতির কারণে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন।

বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় বলে মনে করেন সোধি। অভিজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি এবং নতুনদের অন্তর্ভুক্তিতে বোলিং আক্রমণে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিউজিল্যান্ডের জন্য নতুন এক কৌশলগত জটিলতা তৈরি করেছে। সোধির মতে, মুস্তাফিজের বিপক্ষে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় তার জন্য পরিকল্পনা সাজানো সহজ ছিল। কিন্তু বর্তমান দলের পেসারদের অনেকের বিরুদ্ধেই তারা আগে খেলেননি, যা মাঠের লড়াইকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।

বাংলাদেশ দলের বিবর্তন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কিউই এই তারকা ২০১৩ সালের সফরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “২০১৩ সালে যখন প্রথম এখানে এসেছিলাম, তখনকার দলের সঙ্গে বর্তমান দলের কোনো মিল নেই। বর্তমান দলটি অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী। অনেক নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে এসেছে যারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে এখনও অপরিচিত হতে পারে, কিন্তু তাদের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”

নিজ দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে সোধি জানান, এশীয় কন্ডিশনে খেলার প্রচুর অভিজ্ঞতা কিউই দলে রয়েছে। তবুও বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকরা সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে টাইগারেরা যেকোনো বড় দলকে চাপে ফেলতে পারে। তবে নিউজিল্যান্ডের তরুণ ক্রিকেটাররা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এবং তারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বনাম নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের লড়াইটিই মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। নাহিদ রানার গতি এবং বাংলাদেশের নতুন ধারার পেস বোলিং কিউইদের কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, রানার গতির পরীক্ষা দিতে গিয়ে কিউই টপ-অর্ডারকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এই সফরটি নিউজিল্যান্ডের জন্য যেমন নতুন প্রতিভা পরখ করার সুযোগ, তেমনি বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার অগ্নিপরীক্ষা। ইশ সোধির এই সতর্কবার্তা আদতে মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপকেই আরও বাড়িয়ে দিল।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ