সংসদীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রচলিত আইনের পরিবর্তে ইসলামি আইন প্রবর্তন এবং আলেমদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ইসলামি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও সংসদে কোরআনের কোনো আইন পাস করেনি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ কোরআনে বিশ্বাসী। কোরআনের ৬৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে অন্তত ২ হাজার আয়াতে বিধি-বিধান ও আইনের নির্দেশনা রয়েছে, যা এ দেশে কায়েম করা প্রয়োজন।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পূর্ববর্তী এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি আগে শরিয়ত আইনের বিষয়ে ভিন্নমত দিলেও এখন তারা শরিয়ত বিরোধী আইন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সময় তিনি বিরোধী দলকে আল্লাহর আইনের বিরোধিতা না করার আহ্বান জানিয়ে দেশে প্রচলিত আইনের অবসান ও কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান দেশে নামাজ ও যাকাত ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সূরা হজের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হন, তাদের দায়িত্ব হলো দেশে নামাজ কায়েম করা এবং যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা। বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, কেন দেশে নামাজ ও যাকাত ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে মানুষের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন করা হচ্ছে না।
এ ছাড়াও তিনি সুদ, ঘুষ, মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, অপরাধীদের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। এদের গ্রেফতার করে দেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সংবিধান ও শপথ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আইনানুগ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেন না। বরং সূরা তওবার আয়াত অনুযায়ী জানমালের বিনিময়ে জান্নাত অর্জনের যে ঐশী বিধান রয়েছে, তাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি এই অভিযোগের প্রমাণ চেয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
ইসলামি আইন প্রবর্তনের লক্ষ্যে তিনি দেশের সব মাযহাব ও মতাদর্শের ওলামায়ে কেরাম এবং মাদরাসা শিক্ষিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি জাতীয় বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করেন, যা আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে।


