জাতীয় ডেস্ক
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে শুরু হয়েছে চারদিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এরপর প্রধানমন্ত্রী অভিবাদন মঞ্চে আরোহণ করেন এবং বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে কমান্ড্যান্ট হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত আকর্ষণীয় কন্টিনজেন্টগুলো সুশৃঙ্খল প্যারেড প্রদর্শন করে।
পুলিশ সপ্তাহের এই আয়োজন বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্ষিক কর্মসূচি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিগণ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারগণ এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজারবাগসহ পুরো রাজধানী জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন এবং আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুলিশের ভূমিকা অপরিসীম।
তফসিল অনুযায়ী, চারদিনব্যাপী এই আয়োজনে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব অধিবেশনে বিগত এক বছরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। অপরাধ দমন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তাবনা ও মতামতের ভিত্তিতে আগামী এক বছরের জন্য পুলিশের কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ করা হবে এই সম্মেলনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুলিশ সপ্তাহের গুরুত্ব অনেক। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, বিশেষ করে ডিজিটাল ও ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম মোকাবেলায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের বিষয়টি এই সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা এবং পেশাগত সুযোগ-সুবিধার দাবি-দাওয়া নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে আলোচনার সুযোগ থাকে এই আয়োজনে।
আগামী ১৩ মে সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের পুলিশ সপ্তাহের। সমাপ্তি অধিবেশনের আগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটি জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী পুলিশ বাহিনী নিশ্চিত করা, যা ২০২৬ সালের পরিবর্তিত বাস্তবতায় দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সক্ষম হবে।


