জাতীয় ডেস্ক
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে নারীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন যাত্রী। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘তানহা পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথিমধ্যে শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের উপক্রম হয়। চালক ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল বিপরীতমুখী ভ্যানটিকে সাইড দেওয়া এবং একই সময়ে বালুবাহী ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত করে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনটি সড়ক থেকে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হক জানান, সড়ক দুর্ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। এর মধ্যে হাসপাতালে আনার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, খোকসা থেকে স্থানান্তরিত চারজন রোগীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী মারা গেছেন। বর্তমানে বাকি তিনজন পুরুষ রোগীকে জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অপরিকল্পিত ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল এবং চালকদের অসতর্কতার কারণে প্রতিনিয়তই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের নিরাপত্তা ও ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


