ঠাকুরগাঁওয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৬ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ

ঠাকুরগাঁওয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৬ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ

জাতীয়  ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও জেলায় সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও শতভাগ স্বচ্ছতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ লাইন্সে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ২৬ জন তরুণ-তরুণীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে ২ জন নারী এবং ৫ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে ৫ জন প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ঠাকুরগাঁও জেলার মোট ২ হাজার ৬৫০ জন চাকরিপ্রার্থী এতে অংশ নেন। কয়েক ধাপে শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর ২৫৮ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ২৫০ জন প্রার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫০ জন। পরবর্তীতে ২৪ মে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে উত্তীর্ণদের মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ২৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুচারু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেমুয়াল সাংমা। গত ২৩ মে গভীর রাত থেকে ২৪ মে রাত ৯টা পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সে এই কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফলাফল প্রস্তুত ও চূড়ান্তকরণের কাজ চলে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, দালালি কিংবা অবৈধ তদবির রুখতে আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুরসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ সচেতনতামূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসব সভায় জেলা পুলিশ সুপার নিজে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের প্রতারণার ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানান এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি এবং শতভাগ নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রেখেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অনুচিত সুবিধা বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের যোগ্য প্রার্থীরা নিজেদের মেধার মূল্যায়নে রাষ্ট্রীয় সেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, শূন্য পদের বিপরীতে শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই যোগ্যতম প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে পুলিশের নিয়োগ নিয়ে অতীতে যে ধরনের নেতিবাচক ধারণা ছিল, তা দূর করতেই মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। জেলা পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুযোগ ছিল না এবং সম্পূর্ণ দৃশ্যমান স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ