আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই ফোনালাপে উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক, মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল যেকোনো সংকটে ইরানের পাশে থাকার বিষয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
কূটনৈতিক সূত্র এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফোনালাপকালে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের ‘আন্তরিক ও গঠনমূলক’ প্রচেষ্টার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশী দেশের এই সংহতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে এই অঞ্চলের চলমান শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরসহ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ইতিবাচক ও সমন্বিত ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ইরানের রাষ্ট্রপতি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-পাকিস্তান সম্পর্কের অতীত টানাপোড়েন কাটিয়ে যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটি একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি।
টেলিফোন আলাপের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে মূল্যবান প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তান যে কোনো পরিস্থিতিতে একজন আন্তরিক বন্ধু এবং প্রতিবেশী হিসেবে সব সময় ইরানের পাশে থাকবে—এই বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই অঞ্চলে চলমান শান্তিপ্রচেষ্টা ও বহুমাত্রিক আলোচনা শিগগিরই একটি টেকসই ও স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই দুই দেশের বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার এই প্রয়াসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ভেতরের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফোনালাপ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বড় প্রয়াস। পাকিস্তান ও ইরানের এই যৌথ অবস্থান আগামী দিনে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নির্ধারণে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


