জাতীয় ডেস্ক
সারা দেশে আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এই বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, একটি পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এবং কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অধিদপ্তরের দেওয়া প্রথম ২৪ ঘণ্টার (৩১ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
দ্বিতীয় দিনের (১ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় পূর্ববর্তী দিনের মতোই ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
তৃতীয় দিনে (২ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। এ সময় ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে ভারী বর্ষণের প্রবণতা প্রধানত সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এই সময়েও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
চতুর্থ দিনের (৩ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির পরিধি আরও কিছুটা বিস্তৃত হতে পারে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পঞ্চম দিনে (৪ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাতের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মে মাসের শেষ ও জুনের শুরুতে বাংলাদেশে প্রাক-মৌসুমী বায়ুর প্রভাব সক্রিয় থাকে। পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু বা বর্ষা টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে, যার ফলে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। বর্ষা আগমনের এই প্রাথমিক লক্ষণ দেশের কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক হলেও, উপকূলীয় অঞ্চল এবং ভারী বর্ষণপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


