অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবার প্রাপ্তি জনসাধারণের মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জনগণের এই অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বিশ্বায়নের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় বিএসটিআইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বিএসটিআই মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রতি বছর ২০ মে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হলেও আন্তর্জাতিক পরিমাপ বিজ্ঞানের গুরুত্ব ও এর প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’, যা সমসাময়িক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্বে যেকোনো তথ্যনির্ভর ও প্রমাণকভিত্তিক রাষ্ট্রীয় বা বাণিজ্যিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপের নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা না গেলে যেমন ভোক্তা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সাধারণ মানুষ যাতে বাজারে গিয়ে প্রতারিত না হয় এবং ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র লোগো দেখে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিএসটিআই অনুমোদিত পণ্য শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বহন করে।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত পণ্যসমূহ যাতে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়মানুযায়ী এক দেশের সার্টিফিকেশন অন্য দেশে গ্রহণযোগ্য হতে হলে ল্যাবরেটরির মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে হয়। এ লক্ষ্যে বিএসটিআইয়ের আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আন্তর্জাতিকীকরণের কাজ চলমান রয়েছে।
দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং নকল ও ভেজাল ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন রোধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ভেজাল প্রতিরোধে বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অসাধু ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা দূরীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, বিএসটিআই’র বর্তমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে, যাতে করে দ্রুততম সময়ে পণ্যের মান পরীক্ষা ও ছাড়পত্র প্রদান সম্ভব হয়।
বিএসটিআই’র মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। এ ছাড়াও স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসটিআই’র পরিচালক (মেট্রোলজি) মাজাহারুল হক। বক্তারা দেশের শিল্পায়নের ধারা বজায় রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সঠিক ওজন ও পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।


