প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ উদ্যোগের আশাবাদ

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ উদ্যোগের আশাবাদ

 জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিকুলাম আধুনিকায়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয় দেশ। রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাথে তাঁর দপ্তরে তার্কিশ কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তুরস্কের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশও প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে চায়। সরকার এমন একটি শিক্ষা কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে, যার মাধ্যমে ১০ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশের আগেই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপযুক্ত ভিত্তি লাভ করতে পারে।

বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে চলমান বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সাথে শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম উন্নয়ন ও নন-ফরমাল শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি শুরু করেছে। তুরস্কের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন তিনি।

টিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজান বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সংস্কার উদ্যোগ ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক শিক্ষানীতি ও বর্তমান কর্মপরিকল্পনা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বৈঠকে টিকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

আলোচনায় উভয় পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা, মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং জাতীয় শিক্ষা দর্শন নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই অংশীদারিত্ব দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ