জাতীয় ডেস্ক
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত চটজলদি বা সহজ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিশেষ করে সারা দেশের নালা, নর্দমা ও খাল-বিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর তিনি জোর দেন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে না পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জটিলতা, বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজ (রক্তরস নিঃসরণ) রোধে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে। আধুনিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে মৃত্যুহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।
প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, কেবল ঘরের ভেতর নয়, বরং ‘জলে, স্থলে ও ছাদে’—এই তিন ক্ষেত্রেই সমানভাবে নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়ে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। এ কাজে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে। মশক নিধনে সামান্যতম গাফিলতি বা একটি ভুল পুরো প্রতিরোধ কার্যক্রমকে ব্যর্থ করে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের যেকোনো বড় সংকটে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ যেভাবে সাফল্য এনেছে, ঠিক একইভাবে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চলমান ডেঙ্গু সংকটও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। জনসচেতনতা, সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেন।


