জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে ৩ flights ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৪৩৫ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। অন্যদিকে, হজের আনুষ্ঠানিকতা ও পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র দায়িত্ব পালনকালে মোট ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া, অসুস্থতার কারণে বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২২ জন হাজি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্বদেশে ফিরে আসা ৩৭ হাজার ৪৩৫ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩৪ thousand ১০৭ জন। ফিরতি যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত তিনটি প্রধান বিমান সংস্থার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪ হাজার ৬০ জন, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সৌদিয়া) ১৪ হাজার ২৪১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি পরিবহন করেছে।
হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান বাংলাদেশ, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের সমন্বয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩৪টি, সৌদিয়া ৩৫টি এবং ফ্লাইনাস ২০টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করেছে।
হজের এই দীর্ঘ ও পবিত্র সফরকালে সৌদি আরবের তীব্র গরম ও বার্ধক্যজনিত কারণে এ পর্যন্ত মোট ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ জন, পবিত্র মদিনায় ১২ জন এবং জেদ্দায় একজন হাজি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী তাদের সৌদি আরবেই দাফন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বুলেটিন থেকে আরও জানা যায়, পবিত্র হজের সফরকালীন অসুস্থতার কারণে সৌদি আরবের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ৩৯৮ জন বাংলাদেশি হাজি প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সিংহভাগ সুস্থ হয়ে আবাসে ফিরলেও বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থেকে নিবিড় চিকিৎসা নিচ্ছেন ২২ জন হাজি। চিকিৎসাধীন হাজিদের সার্বিক খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিকেল টিম।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন যাত্রী সৌদি আরব গমন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট গত ১৮ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ মে। এরপর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হাজিদের নিয়ে এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


