অর্থনীতি ও কূটনীতি ডেস্ক
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অবদানকে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং তাদের কল্যাণ সুনিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব) আয়োজিত ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় সরকারের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং এই খাতের সার্বিক উন্নয়নে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী ও বর্তমানে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের নিষ্ঠা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে, যা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শান্তিরক্ষীদের কল্যাণে এবং যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। শীর্ষ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই অবস্থান বজায় রাখা এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি চলমান চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ। আজকের আলোচনা সভায় সেই অঙ্গীকারেরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে।


