অপরাধ ডেস্ক
রংপুর মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং মাদক, চুরি, জুয়া ও দালাল চক্রসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরপিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ-এর নির্দেশনায় মহানগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, জুয়া, প্রতারণা এবং সরকারি হাসপাতালে রোগী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে সাতজন সক্রিয় দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে একজন মাদক ব্যবসায়ী, ১১ জন মাদক সেবনকারী, পাঁচজন জুয়াড়ি, চুরি মামলার দুজন আসামি, পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অপরাধে তিনজনকে আইনের আওতায় আনা হয়।
মহানগরীর বিভিন্ন থানার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, কোতয়ালী থানা পুলিশ পৃথক দুটি চুরির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া একটি টিউবওয়েল, একটি বৈদ্যুতিক পাখা ও তার উদ্ধার করা হয়। একই থানা পুলিশ অন্য একটি অভিযানে ৪০ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
তাজহাট থানা পুলিশ পানবাড়ী এলাকায় একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে। অপরাধস্থল থেকে তাস, জুয়া খেলায় ব্যবহৃত নগদ অর্থ এবং আনুষঙ্গিক আলামত জব্দ করা হয়েছে। এই থানা পুলিশ জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী ও মারমুখী আচরণের দায়ে আরও তিনজনকে এবং মাদক সেবনের অপরাধে একজনকে আটক করে।
পরশুরাম থানা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে দুজনকে মাদক সেবনের দায়ে এবং অপর একজনকে ১৫ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করে। মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাহিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে চোলাই মদ সেবনের অপরাধে তিনজন এবং পূর্ববর্তী একটি প্রতারণা মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে ডিবি পুলিশের বিশেষ দল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের জিম্মি করে অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির অভিযোগে হাসপাতাল দালাল চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে আরও চারজনকে আটক করে ডিবি।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের অপরাধবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।


