জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ২৩২ জন বাংলাদেশি হাজি নির্বিঘ্নে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মোট ৯৭টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। তবে হজের আনুষ্ঠানিকতা ও পরবর্তী সময়ে সৌদিতে অবস্থানকালীন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৩ জন দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা ও হাজিদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত সরকারি তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৩৭ হাজার ৯০৪ জন। ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থা সফলভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৫ হাজার ৭২২ জন, সৌদি আরবভিত্তিক সৌদি এয়ারলাইনস ১৬,১০৯ জন এবং দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি পরিবহন করেছে।
এখন পর্যন্ত পরিচালিত মোট ৯৭টি ফিরতি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪০টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ঢাকা ও জেদ্দা-মদিনার মধ্যে হাজিদের যাতায়াত সহজ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিমান সংস্থাগুলো বিশেষ শিডিউল বজায় রাখছে।
অন্যদিকে, পবিত্র হজ পালনের এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি হাজির বিয়োগান্তক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে এখন পর্যন্ত যে ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩৫ জন হাজি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন। এছাড়া মদিনায় ১২ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। স্থানীয় আইন অনুযায়ী তাদের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অসুস্থতাজনিত কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৪০১ জন বাংলাদেশি হাজি প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। হজ মিশনের চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থেকে উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও ১৩ জন হাজি। চিকিৎসাধীন হাজিদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশনের একটি প্রতিনিধি দল সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৭৮ হাজার৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে যান। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট গত ১৮ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ মে। এরপর সফলভাবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হাজিদের নিয়ে এই ফিরতি ফ্লাইট অপারেশন অব্যাহত থাকবে।


